ভালোবাসার ম্যারাডোনা স্টেডিয়াম পেয়ে গেল নাপোলি

স্টেডিয়াম জ্বালিয়ে রেখেছিল নাপোলি

নাপোলিকে বিশ্বের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ইতালির ফুটবলের পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের এক ক্লাবকে জুভেন্টাস, এসি মিলানের সঙ্গে লড়ার সাহস দেখিয়েছেন তিনি। এ ক্লাবটি তাই বরাবর তাঁকে হৃদয়ের সর্বস্ব দিয়ে ভালোবেসেছে। নেপলসবাসী নিজেদের একজন বলেই জানেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। মৃত্যুর পক্ষেও সম্ভব নয় এই সম্পর্কে চিড় ধরানো।

গত ২৫ নভেম্বর রাতে ম্যারাডোনার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনার পর তাই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে নাপোলি–সংশ্লিষ্ট সবাই। সেদিন রাতেই ম্যারাডোনার সম্মানে তাদের সান পাওলো স্টেডিয়ামের আলো জ্বালিয়ে রেখেছিল তারা, যেন আকাশ থেকে নাপোলিকে দেখতে পারেন ম্যারাডোনা। স্টেডিয়ামের নাম বদলানোর কথাও সেদিনই প্রথম উঠেছিল। ম্যারাডোনাকে শেষবিদায় জানানোর এক সপ্তাহ না জেতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে নেপলস। আজ স্তাদিও সান পাওলোর নাম স্তাদিও ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহরটি।

১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নাপোলিতে ছিলেন ম্যারাডোনা। শুধু ফুটবল মাঠেই যে মন জিতেছেন তা নয়, শহরের অলিগলিতে অসহায় মানুষের ভালোবাসা জিতে নিয়েছেন খেয়ালি আচরণ দিয়ে। অভাবী মানুষের ভালোবাসার ডাক পেলেই ছুটে যেতেন, সবার পরামর্শ উপেক্ষা করেই তাঁদের ভালোবাসা জিতে নিতেন। তাঁর সম্মানে স্টেডিয়ামের নামকরণে সেই প্রসঙ্গও উঠে এসেছে, ‘ফুটবলে এই আর্জেন্টাইন চ্যাম্পিয়নসের অবদান অনেক, তবে শুধু নাপোলি দলই তাঁর স্পর্শে জেতেনি বরং পুরো শহর তাঁকে আপন করে নিয়েছিল। দুর্বলের পক্ষ নিতেন, সাধারণ মানুষের পাশে থাকতেন। নেপোলিয়ানরা প্রথা ও বৈষম্যের শিকার হতেন, ম্যারাডোনা সব সময় এর বিরুদ্ধে লড়েছেন। এভাবেই শহরের মানুষের কাছে আদর্শ বনেছেন।’

ম্যারাডোনার নামে স্টেডিয়ামের নাম পেতে অবশ্য এখনো একটু অপেক্ষা করতে হবে নেপলসবাসীকে। নেপলসের প্রিফেক্টের কাছ থেকে নতুন নামকরণের অনুমোদন পেতে হবে এখনো। তবে সেটাকে শুধুই একটা আনুষ্ঠানিকতা বলেই মানছেন সবাই।

Related posts

Leave a Comment